/ / অত্যধিক ইন্টারনেট ব্যবহার নেশা

অত্যধিক ইন্টারনেট ব্যবহার নেশা

প্রাপ্তবয়স্কদের অত্যধিক ইন্টারনেট ব্যবহার নেশার পর্যায়ে পড়ে। প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করলেও এ ধরনের নেশার কারণে মানবজীবন অনেকটাই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। মিসৌরি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ডিউক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার এবং ডিউক ইনস্টিটিউট অব ব্রেইন সায়েন্সের গবেষকরা সম্মিলিতভাবে এক গবেষণায় এ তথ্য প্রকাশ করেন। খবর টেকগিগের।
প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে আগের চেয়ে অনেক সহজ করে দিয়েছে। এখন ঘরে বসেই গ্রাহকরা বাইরের বিভিন্ন কাজ করতে পারছেন, যা তাদের সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমের পরিমাণও অনেকটা কমিয়ে দেয়।
কিন্তু প্রতিটি মুদ্রারই উল্টো পিঠ রয়েছে। বিশ্বের কোনো বিষয়ই একমুখী নয়। প্রতিটি বিষয়ের যেমন ভালো দিক রয়েছে, তেমনি খারাপও রয়েছে। প্রযুক্তিও এর ঊর্ধ্বে নয়। ইন্টারনেটকে গ্রাহকরা জীবনের আশীর্বাদ হিসেবে গণ্য করেন। তাদের মতে, ইন্টারনেট না থাকলে বিশ্ব আজ হাতের মুঠোয় থাকত না। কিন্তু অত্যধিক ইন্টারনেট ব্যবহার আসক্তির পর্যায়ে পড়ে বলে গবেষণার মাধ্যমে জানিয়েছেন গবেষকরা।
ভারতের চেন্নাইয়ে অ্যাডভান্সড নেটওয়ার্কস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনস সিস্টেমের ওপর ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে চলতি মাসের ১৮ তারিখে এ গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়। ৬৯ জন কলেজ শিক্ষার্থীর ওপর দুই       মাস গবেষণা চালিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান       সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্টারনেট গ্রাহকদের সাধারণত দুউ ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হচ্ছে, যেসব গ্রাহক স্বাভাবিকভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। আরেক ধরনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছেন, যারা দিনরাত এক করে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এ ধরনের গ্রাহকরা আসক্ত বলে গবেষণার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শ্রীরাম চেলাপ্পান বলেন, গবেষণায় ইন্টারনেট ব্যবহারের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। এতে গ্রাহকদের ইন্টারনেট ব্যবহার ও আসক্তির মধ্যে একটি সম্পর্ক উন্মোচিত হয়েছে।
এ গবেষণার শুরুতে ৬৯ জন অংশগ্রহণকারীকে ২০টি প্রশ্ন-সংবলিত একটি পত্র পূরণ করতে দেয়া হয়। এ প্রশ্নগুলোতে গ্রাহকরা ইন্টারনেট ব্যবহারে সাধারণত কি কি সমস্যার সম্মূখীন হন তা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। এ প্রশ্নগুলোর মাধ্যমেই গ্রাহকদের ইন্টারনেট আসক্তির ব্যাপারটি উঠে আসে। এ জরিপের মাধ্যমে যেসব সমস্যা উঠে আসে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, খুব বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে শারীরিক সমস্যা, অধৈর্য হয়ে যাওয়া ও অত্যধিক ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে জীবনের নেতিবাচক দিকগুলো। এ প্রশ্নপত্র পূরণের পরও দুই মাস শিক্ষার্থীরা তাদের কলেজ ক্যাম্পাসে ইন্টারনেটে কতটা সক্রিয় রয়েছেন, তাও দেখা হয়েছে।
এ গবেষণায় চেল্লাপ্পান ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান ও আচরণ বিজ্ঞানের প্রফেসর ড. পি মুরালি দোরাইসোয়ামির সঙ্গে কাজ করেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের যে প্রশ্নপত্র পূরণ করতে দেয়া হয় তাতে ২০০-এর ওপর ভিত্তি করে নম্বর দেয়া হয়। এ স্কেলে অংশগ্রহণকারীরা ৩০-১৩৪ এর মধ্যে নম্বর পেয়েছেন। গড়ে পেয়েছেন ৭৫ নম্বর। এ সময়ে অংশগ্রহণকারীরা ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন ১৪০ মেগাবাইট থেকে ৫১ গিগাবাইটের মধ্যে, যার গড় ৭ গিগাবাইট।
এ সময় অংশগ্রহণকারীরা আবার বিভিন্ন খাতে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গেম, চ্যাট, ফাইল ডাউনলোড, ই-মেইল, ব্রাউজ ও ফেসবুক এবং টুইটারের মতো বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ সাইট।
গবেষকদের মতে, অংশগ্রহণকারীদের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, তারা দুই মাসে অনেক বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন, যা কোনো সাধারণ ব্যাপার নয়। তাদের মতে, এ ধরনের ব্যবহার আসক্তির পর্যায়ে পড়ে, যা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান সময়ের প্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় সেবার নাম ইন্টারনেট। ইন্টারনেটের কারণে গ্রাহকরা আজ বিশ্বের অনেক সেবাই খুব সহজে ঘরে বসে পাচ্ছেন। কিন্তু এ ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের জীবনে দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে বলে অভিমত গবেষকদের।

about author

Previous Post :Go to tne previous Post
Next Post:Go to tne Next Post

No comments:

Post a Comment