/ / আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার গোয়েন্দা সংস্থার হুঁশিয়ারি

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার গোয়েন্দা সংস্থার হুঁশিয়ারি

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলেছে, আফগানিস্তান থেকে যদি সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেয়া হয় তাহলে গত তিন বছরে আফগান যুদ্ধে আমেরিকা ও মিত্র বাহিনী যে সাফল্য অর্জন করেছে তা ভেস্তে যাবে।

আমেরিকার ১৬টি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এ আশঙ্কা প্রকাশ করে আরো বলা হয়েছে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তানে তালেবানদের প্রভাব আবারো বৃদ্ধি পাবে। প্রতিবেদনে আগামী ২০১৪ সালের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেয়ার আগে সেদেশটির ব্যাপারে নতুন কর্মপন্থা ও নীতি গ্রহণের জন্য প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

বর্তমানে আফগানিস্তানে আর্থ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটেছে তাতে মার্কিন কর্মকর্তারা সেদেশে গত তিন বছরে অর্জিত সাফল্য বলতে কি বোঝাতে চেয়েছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ আমেরিকা ও তার মিত্ররা সন্ত্রাসবাদ দমন এবং তালেবান শাসন উতখাতের অজুহাতে ২০০১ সালে আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে দেশটি দখল করে নেয়। কিন্তু আফগানিস্তানে হাজার হাজার বিদেশি সেনা উপস্থিতি সত্ত্বেও এবং এত দীর্ঘ সময় পার হলেও তালেবানরা এখনো তাদের শক্তি-সামর্থ্য ধরে রেখেছে এবং প্রতিদিনই আফগান জনগণ নিরাপত্তাহীনতা ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, বিগত বছরগুলোতে বিশেষ করে ২০০৫ সালের পর আফগানিস্তানে বেসামরিক মানুষ হত্যার ঘটনা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকা ও ব্রিটেনসহ আফগানিস্তানে মোতায়েন অন্যান্য বিদেশী সেনারাও ২০১০ সালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।

আফগানিস্তানে নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়াও সেদেশে মাদক চাষও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।  এ ছাড়া, সেদেশটিতে আর্থিক দুর্নীতিও আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তানে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার অজুহাতে সেদেশে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার চেষ্টা চলছে এবং এ অঞ্চলে নিজ স্বার্থ টিকিয়ে রাখাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।
এ ব্যাপারে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক জেমস অ্যাডাম বলেছেন, আফগানিস্তানে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোই আমেরিকার প্রধান নীতি এবং সেদেশটিতে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা ছাড়া আমেরিকার সামনে অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই। মার্কিন সরকার সন্ত্রাসবাদ দমনের প্রতিশ্র“তি দিয়ে আফগানিস্তানে বিপুল সেনা সমাবেশ ঘটালেও সে প্রতিশ্র“তি তারা আজো বাস্তবায়ন করেনি এবং সেদেশে সহিংসতা ও অসংখ্য বেসামরিক মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

এ অবস্থায় আফগানিস্তানে আরো বেশি সময় ধরে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার প্রস্তাব সেদেশের পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

about author

Previous Post :Go to tne previous Post
Next Post:Go to tne Next Post

No comments:

Post a Comment