আটক থাকা চিকিৎসকের মুক্তির প্রশ্নে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করেছেন রাজশাহীর হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসকরা।ভুল চিকিৎসার অভিযোগে একটি মামলায় আদালত জামিন মঞ্জুর না করে একজন চিকিৎসককে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে রাজশাহীর হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসকরা ধর্মঘট করেছিলেন।
এই ধর্মঘটের কারণে গত দু’দিন দুর্ভোগে পড়েছিলেন শত শত রোগী।
শেষ পর্যন্ত আটক থাকা চিকিৎসকের মুক্তির প্রশ্নে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
ডাক্তারদের ধর্মঘট
ডাক্তারদের ধর্মঘটে রোগিরা বিপাকে

ডাক্তারদের কর্মবিরতীর কারণে রাজশাহীর আশপাশের জেলাগুলো থেকে শহরে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা পড়েন চরম বিপাকে।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলার মানুষ চিকিৎসার জন্য রাজশাহী প্রতিনিয়ত শহরে আসেন। কিন্তু ডাক্তারদের ধর্মঘটের কর্মবিরতির চিকিৎসা না পেয়েই তাদের ফেরত যেতে হয়।
ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ এনে রাজশাহীর একজন ডাক্তারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন বাসিন্দা।
সেই মামলায় রাজশাহীর একটি আদালত অভিযুক্ত ডাক্তারের জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠায়। এরপর ডাক্তারদের তরফ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়।
ডাক্তারদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন-এর রাজশাহী শাখা এবং সেখানকার বেসরকারি ক্লিনিক মালিকদের সংগঠন যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই ধর্মঘটের ডাক দেয়।
গত ৩০শে জানুয়ারি হাড়ের সমস্যা নিয়ে রাজশাহী শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে যান চাঁপাইনবাগঞ্জের একজন বাসিন্দা।
এরপর তাকে অস্ত্রোপচারের জন্য সেই রোগিকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হলে আধাঘন্টার মধ্যেই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠে।
সরকারী-বেসরকারী উভয় হাসপাতালের ডাক্তাররা কর্মবিরতি করছেন
এরপর ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
রাজশাহীর সাংবাদিক আনোয়ার আলী জানিয়েছেন এই ধর্মঘট চলাকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শুধুমাত্র জরুরী বিভাগে সীমিত আকারে চিকিৎসা দেয়া হবে।
কারাগারে থাকা ডাক্তারকে জামিনে মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত ডাক্তারদের চালিয়ে যাবার ঘোষনা দেয়া হয়েছে ডাক্তারদের সংগঠনের পক্ষ থেকে।
বাংলাদেশে অনেক সময় ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় রোগি মৃত্যুর অভিযোগ উঠে। অধিকংশ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগিরা কোন আইনের আশ্রয় নেয় না।
এ ক্ষেত্রে কোন আইনগত প্রতিকার পা্ওয়া যায় কিনা সেটিও অনেকের জানা নেই। আবার কখনো কখনো রোগির আত্নীয়-স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাৎক্ষনিকভাবে হাসপাতাল কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাংচুর চালানোর খবরও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
তবে ভুল চিকিৎসার কারনে ভুক্তভোগিদের আ্ইনগত প্রতিকার পাবার নজির খুব একটা নেই।
কিন্তু ডাক্তারদের যুক্তি ভিন্ন।ডাক্তাররা বলেন রোগিদের সর্বোচ্চ সেবা দেবার চেষ্টা থাকে তাদের দিক থেকে।
কিন্তু অনেক সময় রোগি বাঁচানো সম্ভব না হলে তাদের আত্নীয়-স্বজনরা ‘আবেগপ্রবন’ হয়ে ডাক্তারদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বলে তাদের অভিযোগ।
No comments:
Post a Comment