প্রাকৃতীক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবন। আর এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জে ছুটে আসেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। মানসিক প্রশান্তির মাধ্যমে সারা বছরের ক্লান্তি দূর করে ফিরে যান যার যার ঘরে। এবার ১৮ দলের ডাকা অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচিতে সহিংসতার ফলে ভরা পর্যটন মৌসুমে সুন্দরবনে পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে পর্যটকদের উপর নির্ভরশীল বিভিন্ন পেশার মানুষজনের দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নকীপুর জমিদার বাড়ি এলাকার রিফাত ট্যুরিজমের স্বত্ত্বাধিকারী সালাহউদ্দিন বাপ্পি জানান, অক্টোবর মাসের শেষের দিক থেকে ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত চলে পর্যটন মৌসুম। এ সময় সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্যভরা সাতক্ষীরা রেঞ্জের হিরনপয়েন্ট, মান্দারবাড়িয়া, কালিরচর , দোবাকি, কলাগাছিসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে আসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, চাকরিজীবী, ছাত্রছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষজন। বছরের একটি সময় পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটি কাটিয়ে তারা ফিরে যান নিজ নিজ বাড়িতে। এ বেড়ানোর মধ্য দিয়ে তারা কাজে খুঁজে পান নতুন উদ্যম।
তিনি আরও জানান, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে সাতক্ষীরাসহ দেশজুড়ে যে সহিংসতা শুরু হয়েছে তাতে গোটা জাতি আতঙ্কিত। নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপন্ন হওয়ার ফলে ভেঙে পড়েছে পর্যটন শিল্প। গত মৌসুমে পর্যটক সংখ্যা কম হলেও এবার অনেকাংশে কমে গেছে। ফলে তার ট্যুরিজমে কর্মরত ১০জন কর্মকর্তা কর্মচারীকে বসিয়ে বসিয়ে বেতন গুণতে হচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে ট্রলার বিক্রি করে দিয়ে অন্য পেশায় যাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। তিনি অবরোধ বা হরতালে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে জনগণের উৎকণ্ঠা দূর করার জন্য সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান।
সুন্দরবনের বর্ষা ট্যুরিজমের স্বত্ত্বাধিকারী আনিছুর রহমান জানান, সুন্দরবনের প্রাকৃতীক সৌন্দর্য যিনি একবার উপভোগ করেছেন তিনি বার বার আসার বাসনা পোষণ করেন। এখানে না আসলে বোঝা যায় না চিত্তল হরিণ, বানর, গেওয়া, সুন্দরী কেওড়াসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী ও গাছের কতটা আকর্ষণ। একই পরিবারের লোকজন কয়েকবার তার লঞ্চে করে সুন্দরবন ভ্রমন করেছেন তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধুমাত্র হরতাল ও অবরোধ নয়, সুন্দরবনের বনদস্যুদের অত্যাচারের ফলে অনেকেই এখানে আসতে চায় না। তাছাড়া মুন্সিগঞ্জে ভাল গেস্ট হাউজ (সুশীলন ব্যতীত) না থাকাটা পর্যটকদের অন্যতম সমস্যা বলে মনে করেন তিনি।
মুন্সিগঞ্জের ট্রলার মালিক আলমগীর হোসেন, মিজানুর রহমান ও কলবাড়ির কামরুল ইসলাম জানান, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে সুন্দরবনের মুন্সিগঞ্জ। পরীক্ষা শেষে ও পরীক্ষার ফল বের হওয়ার পর স্বজনদের সঙ্গে তারা সুন্দরবনে আসে ঘুরতে। এ সময় বুড়ি গোয়ালিনিতে পিকনিকসহ সুন্দরবনের প্রাকৃতীক সৌন্দর্য উপভোগকালে অনাবিল আনন্দে মেতে ওঠে তারা। এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। তারা বলেন, চলতি মৌসুমে ছাত্রছাত্রী ছাড়াও কোন পেশাজীবী মানুষ সুন্দরবনে আসেনি বললেই চলে। ফলে তাদের মত কমপক্ষে ৫০টি ছোট ছোট ট্রলার মালিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এছাড়া এ পেশার সঙ্গে জড়িত মুন্সিগঞ্জ, হরিনগর, বুড়িগোয়ালিনিসহ বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা খারাপ সময় পার করছেন। লবণাক্ত উপকূলবর্তী এলাকার অনেককেই অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে।
মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব হোসেন জানান, বনদস্যুদের ভয়ে অনেকেই আগে সুন্দরবনে আসত না। সম্প্রতি বনবিভাগ ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানের ফলে সেই ভয় কমেছে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবারে পর্যটকরা সুন্দরবনে আসতে ভয় পাচ্ছে।
সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক কেরামত আলী মল্লিক জানান, গত বছর ১ জুলাই থেকে জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পর্যটন খাতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৯ লাখ ৯৫ হাজার ৪০৫ টাকা। সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিল ২১ হাজার ৭৫৬ জন পর্যটক। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আদায় হয়েছে চার লাখ ২৩ হাজার ৬৪৫ টাকা। এ সময়ে চার হাজার ৯৯১ জন পর্যটক সুন্দরবনে প্রবেশ করেছে। হরতাল-অবরোধের কারণে পর্যটক সংখ্যা অনেকাংশে কমে গেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নকীপুর জমিদার বাড়ি এলাকার রিফাত ট্যুরিজমের স্বত্ত্বাধিকারী সালাহউদ্দিন বাপ্পি জানান, অক্টোবর মাসের শেষের দিক থেকে ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত চলে পর্যটন মৌসুম। এ সময় সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্যভরা সাতক্ষীরা রেঞ্জের হিরনপয়েন্ট, মান্দারবাড়িয়া, কালিরচর , দোবাকি, কলাগাছিসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে আসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, চাকরিজীবী, ছাত্রছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষজন। বছরের একটি সময় পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটি কাটিয়ে তারা ফিরে যান নিজ নিজ বাড়িতে। এ বেড়ানোর মধ্য দিয়ে তারা কাজে খুঁজে পান নতুন উদ্যম।
তিনি আরও জানান, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে সাতক্ষীরাসহ দেশজুড়ে যে সহিংসতা শুরু হয়েছে তাতে গোটা জাতি আতঙ্কিত। নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপন্ন হওয়ার ফলে ভেঙে পড়েছে পর্যটন শিল্প। গত মৌসুমে পর্যটক সংখ্যা কম হলেও এবার অনেকাংশে কমে গেছে। ফলে তার ট্যুরিজমে কর্মরত ১০জন কর্মকর্তা কর্মচারীকে বসিয়ে বসিয়ে বেতন গুণতে হচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে ট্রলার বিক্রি করে দিয়ে অন্য পেশায় যাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। তিনি অবরোধ বা হরতালে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে জনগণের উৎকণ্ঠা দূর করার জন্য সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান।
সুন্দরবনের বর্ষা ট্যুরিজমের স্বত্ত্বাধিকারী আনিছুর রহমান জানান, সুন্দরবনের প্রাকৃতীক সৌন্দর্য যিনি একবার উপভোগ করেছেন তিনি বার বার আসার বাসনা পোষণ করেন। এখানে না আসলে বোঝা যায় না চিত্তল হরিণ, বানর, গেওয়া, সুন্দরী কেওড়াসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী ও গাছের কতটা আকর্ষণ। একই পরিবারের লোকজন কয়েকবার তার লঞ্চে করে সুন্দরবন ভ্রমন করেছেন তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধুমাত্র হরতাল ও অবরোধ নয়, সুন্দরবনের বনদস্যুদের অত্যাচারের ফলে অনেকেই এখানে আসতে চায় না। তাছাড়া মুন্সিগঞ্জে ভাল গেস্ট হাউজ (সুশীলন ব্যতীত) না থাকাটা পর্যটকদের অন্যতম সমস্যা বলে মনে করেন তিনি।
মুন্সিগঞ্জের ট্রলার মালিক আলমগীর হোসেন, মিজানুর রহমান ও কলবাড়ির কামরুল ইসলাম জানান, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে সুন্দরবনের মুন্সিগঞ্জ। পরীক্ষা শেষে ও পরীক্ষার ফল বের হওয়ার পর স্বজনদের সঙ্গে তারা সুন্দরবনে আসে ঘুরতে। এ সময় বুড়ি গোয়ালিনিতে পিকনিকসহ সুন্দরবনের প্রাকৃতীক সৌন্দর্য উপভোগকালে অনাবিল আনন্দে মেতে ওঠে তারা। এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। তারা বলেন, চলতি মৌসুমে ছাত্রছাত্রী ছাড়াও কোন পেশাজীবী মানুষ সুন্দরবনে আসেনি বললেই চলে। ফলে তাদের মত কমপক্ষে ৫০টি ছোট ছোট ট্রলার মালিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এছাড়া এ পেশার সঙ্গে জড়িত মুন্সিগঞ্জ, হরিনগর, বুড়িগোয়ালিনিসহ বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা খারাপ সময় পার করছেন। লবণাক্ত উপকূলবর্তী এলাকার অনেককেই অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে।
মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব হোসেন জানান, বনদস্যুদের ভয়ে অনেকেই আগে সুন্দরবনে আসত না। সম্প্রতি বনবিভাগ ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানের ফলে সেই ভয় কমেছে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবারে পর্যটকরা সুন্দরবনে আসতে ভয় পাচ্ছে।
সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক কেরামত আলী মল্লিক জানান, গত বছর ১ জুলাই থেকে জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পর্যটন খাতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৯ লাখ ৯৫ হাজার ৪০৫ টাকা। সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিল ২১ হাজার ৭৫৬ জন পর্যটক। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আদায় হয়েছে চার লাখ ২৩ হাজার ৬৪৫ টাকা। এ সময়ে চার হাজার ৯৯১ জন পর্যটক সুন্দরবনে প্রবেশ করেছে। হরতাল-অবরোধের কারণে পর্যটক সংখ্যা অনেকাংশে কমে গেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

No comments:
Post a Comment